আজ সোমবার, ২১ জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৭ আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১০ জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি
আজ সোমবার, ২১ জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ, ৭ আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১০ জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

ঢাবি ছাত্রী ধর্ষণ: মজনুর যাবজ্জীবন

রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ মামলায় একমাত্র আসামি মজনুর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ এর বিচারক বেগম মোসা. কামরুন্নাহার এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মোবাইল ছিনতাই ও চুরির দায় থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

গত ১২ নভেম্বর মজনুর আত্মপক্ষ শুনানি এবং রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের এ তারিখ ধার্য করেন আদালত।

সংশ্লিষ্ট আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর আফরোজা ফারহানা আহমেদ (অরেঞ্জ) বলেন, আসামির বিরুদ্ধে যে ধারায় চার্জগঠন করা হয়েছিল, সেই ধারায় সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আদালত তাই দিয়েছেন। আমরা রায়ে সন্তুষ্ট। আমরা চেষ্টা করেছিলাম অল্প সময়ের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি করার। তাই করেছি। আপরাধীর আসলে কোনো ক্ষমা নেই। সে যেই হোক।

রায়ে কোনো অবজারভেশন আছে কি না জানতে চাইলে আফরোজা ফারহানা আহমেদ (অরেঞ্জ) বলেন, বিচারক অসুস্থ, রায়ের অবজারভেশন দেবেন। বিস্তারিত রায়ে জানাবেন।

ডিএনএ রিপোর্টে অনেকের স্পার্ম পাওয়া গেলে এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী বলেন, বলেছে একাধিক স্পার্ম পাওয়া গেছে। একাধিক বলতে আমরা বলতে চাইছি, ভিকটিম এবং আসামির। এর বাইরে আর কারো না।

সরকার থেকে নিয়োগ প্রাপ্ত মজনুর আইনজীবী রবিউল ইসলাম রবি বলেন, মামলায় চাক্ষুস কোনো সাক্ষী নেই। রাষ্ট্রপক্ষ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। আসামি ন্যায়বিচার পায়নি। রায়ে আমরা অসন্তুষ্ট। আসামি চাইলে আপিল করা হতে পারে।

গত ৫ জানুয়ারি কুর্মিটোলায় ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। ওই ঘটনায় ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

৮ জানুয়ারি ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন শেওড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে র‌্যাব মজনুকে গ্রেপ্তার করে। ৯ জানুয়ারি আদালত মজনুর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ১৬ জানুয়ারি মজনু দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

এরপর ১৬ মার্চ মজনুকে একমাত্র আসামি করে ঢাকা সিএমএম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আবু সিদ্দিক। ওইদিনই আদালত মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন। ১৬ আগস্ট একই আদালত মজনুর বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেন। ২৬ আগস্ট মজনুর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়।

২০১৯ সালের ৫ নভেম্বর মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলায় ২৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ২০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। ১২ নভেম্বর আত্মপক্ষ শুনানি এবং রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের তারিখ ধার্য করেন আদালত।