আজ বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি
আজ বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ, ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরি

কানাডায় বাংলাদেশিদের জন্য যত স্কলারশিপ

কানাডা উচ্চশিক্ষা প্রত্যাশীদের জন্য একটি আকাঙ্ক্ষিত স্থান। দেশটিতে আছে পৃথিবীর অনেকগুলো সেরা বিশ্ববিদ্যালয়। কানাডার বাসিন্দারা জাতিগতভাবে মার্জিত এবং শিক্ষিত। মানসম্মত শিক্ষা এবং উন্নত জীবনযাপনের জন্য বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পড়তে যাওয়া বেশিরভাগেরই অন্যতম পছন্দ কানাডা। তবে কানাডায় শিক্ষা ও জীবনযাপনের ব্যয় অনেক বেশি। ব্যয়বহুল দেশটিতে উচ্চশিক্ষা নিতে তাই বেশিরভাগেরই চোখ থাকে স্কলারশিপের দিকে।

কানাডার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিদেশ থেকে আসা মেধাবী শিক্ষার্থীদের ব্যাপকহারে স্কলারশিপ দিয়ে থাকে। এছাড়াও, কানাডার সরকার ও বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অনেক স্কলারশিপ দেয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যেও আছে এই সুবিধা লুফে নেওয়ার সুযোগ।

বাংলাদেশিরা কানাডার যেসব সরকারি স্কলারশিপে আবেদন করতে পারে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘শাস্ত্রী ইন্দো-কানাডিয়ান ইন্সটিটিউট’ এর স্কলারশিপসমূহ। এই ইন্সটিটিউট শিক্ষার বিভিন্ন স্তরভেদে কানাডায় ফেলোশিপের সুযোগ দিয়ে থাকে। এর বাইরে, তাদের রিসার্চ স্কলারশিপের অধীনে বাংলাদেশের সুপরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও এম. ফিল. পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের বিষয়ে গবেষণার সুযোগ প্রদান করা হয়। এছাড়া, যোগ্য শিক্ষার্থীরা অনলাইনেও তাদের বিভিন্ন কোর্স ও ইন্টার্নশিপে অংশ নিতে পারে।

কানাডায় কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়ে থাকে ‘কানাডিয়ান কমনওয়েলথ স্কলারশিপ এন্ড ফেলোশিপ প্ল্যান’। কানাডায় যাওয়া, থাকা ও পড়াশোনার খরচ এই স্কলারশিপেই অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়াও, স্বল্প পরিসরে এই স্কলারশিপের অধীনে ৫-৬ মাসের জন্য কানাডায় থাকা ও চলাফেরার খরচ হিসেবে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত দেওয়া হয়।
নানাবিধ বিষয়ে স্নাতকে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া হয় ‘অন্টারিও গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ’। এই স্কলারশিপের অধীনে প্রতি সেশনে ৫ হাজার ডলার দেওয়া হয়। বছরে দুই/তিন সেশনে এই স্কলারশিপ থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত পাওয়া সম্ভব।

প্রকৌশল ও পরিবেশবিদ্যায় স্নাতকোত্তর করা শিক্ষার্থীদের ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিল অফ কানাডা ‘রিসার্চ এসোসিয়েট’ হিসেবে কানাডায় গবেষণার জন্য নিয়ে থাকে। এছাড়াও আছে, কিউবেক প্রভিন্সিয়াল গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ। যার অধীনে কিউবেকে স্নাতকোত্তর ও তার উপরের শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মেধার ভিত্তিতে বৃত্তি দেয়া হয়ে থাকে। পি.এইচ.ডি. বা পরবর্তী শিক্ষার জন্য ২৫ থেকে ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত দেওয়া হয় এই স্কলারশিপে।

 

কানাডার সরকারী স্কলারশিপগুলোর মধ্যে আরও আছে অন্টারিও ট্রিলিয়াম স্কলারশিপ। প্রতিবছর ৭৫ জন শিক্ষার্থীকে পি.এইচ.ডি. প্রোগ্রামে ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত দেওয়া হয় এই স্কলারশিপে।

এগুলোর বাইরে আছে সোশ্যাল সায়েন্স এন্ড হিউমিনিটিস রিসার্চ কাউন্সিল অফ কানাডা স্কলারশিপ, বেন্টিং পোস্টডক্টরাল স্কলারশিপ ও ভ্যানিয়ের কানাডা গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ।
কিছু বেসরকারি স্কলারশিপও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয়। যেমন, আন্ন্যে ভাল্ল্যে ইকোলোজিক্যাল ফান্ড ও ট্রুডো স্কলারশিপস এন্ড ফেলোশিপস।

এই স্কলারশিপগুলো পেতে হলে থাকতে হবে কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও রাখতে হবে মেধার স্বাক্ষর। প্রাথমিকভাবে, ভালো একাডেমিক ফলাফল থাকতে হবে। এটি অবশ্য বাছাইকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিষয় ও উচ্চশিক্ষার স্তরভেদে আলাদা হতে পারে। পাশাপাশি, স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে সহঃশিক্ষা কার্যক্রমে ফলাফল ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কাজ এগিয়ে রাখতে পারে।

শেয়ার করুন:
Share on Facebook
Facebook
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin
Print this page
Print