আজ সোমবার, ৩রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি
আজ সোমবার, ৩রা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৪ হিজরি

সংকটের কার্যকর সমাধান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীদের যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গতানুগতিকতা ভেঙে অদম্য সাহস ও নেতৃত্বের দক্ষতা দেখিয়ে নারীরা প্রতিটি ক্ষেত্রে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। তাই যেকোনো সংকটে কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীদের যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।
মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দফতরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে সাধারণ পরিষদের সভাপতি কাসাবা কোরোসি আহূত ইউএনজিএ প্ল্যাটফর্ম অফ উইমেন লিডারর্সের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

এই বিষয়ে তিন দফা প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তা হলো- লিঙ্গ সমতা বিষয়ক উপদেষ্টা বোর্ডের স্থানীয়করণ, পর্যাপ্ত রাজনৈতিক ও আর্থিক উপায়ে নারী নেতৃত্বাধীন সুশীল সমাজ-সংস্থাকে লালন ও সমর্থন, লিঙ্গ সমতার জন্য সাধারণ এজেন্ডাকে শক্তিশালী করতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের শীর্ষ সম্মেলন আহ্বান।

তিনি বলেন, জটিল বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মতামত বিনিময় এবং মানবজাতির জন্য ইতিবাচক ফলাফল আনার লক্ষ্যে এই নেটওয়ার্ক (ইউএনজিএ প্ল্যাটফর্ম অব উইমেন লিডার্স) ব্যবহার করার এটাই উপযুক্ত সময়। আমরা বিশ্বব্যাপী নারী নেতৃত্বকে উৎসাহিত করতে জাতিসংঘের প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।

শেখ হাসিনা প্রথম দফা প্রস্তাবে লিঙ্গ সমতা বিষয়ে উপদেষ্টা বোর্ড গঠনের সুপারিশ করেন। তিনি বলেন, এটি এখন স্থানীয়করণ করা দরকার। আমাদের সব স্তরে জেন্ডার চ্যাম্পিয়নদের প্রয়োজন। তৃণমূল স্তরে আমরা উদাহরণ সহকারে নেতৃত্ব দিতে পারি।

দ্বিতীয় দফা প্রস্তাবে তিনি বলেন, নারী নেতৃত্বাধীন সুশীল সমাজ-সংস্থাকে পর্যাপ্ত রাজনৈতিক ও আর্থিক উপায়ে লালন-পালন এবং সমর্থন করা প্রয়োজন। এই ধরনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার তৃতীয় দফা প্রস্তাবে বলেন, লিঙ্গ সমতার জন্য সাধারণ এজেন্ডাকে শক্তিশালী করতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের শীর্ষ সম্মেলন আহ্বান করা প্রয়োজন। বিশ্বের সব রাষ্ট্রের নেতাদের লিঙ্গ সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়নের অগ্রগতির জন্য দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া উচিত।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সরকার নারীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং তাদের আর্থিক স্বাধীনতা অর্জনের জন্য নতুন উপায় তৈরি করাসহ নারীর ক্ষমতায়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে আমাদের জাতীয় বাজেটের প্রায় ২৭ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) তিনটি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা লিঙ্গ সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজনৈতিক পটভূমিতে বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষ থেকে নিম্নস্তর পর্যন্ত সব স্তরে নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।

নারী উদ্যোক্তাকে উৎসাহিত করা বাংলাদেশ সরকারের অঞ্জ্যতম মূলনীতি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা নারীদের সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে নিয়ে এসেছি। নারী ও পুরুষ উদ্যোক্তাদের জন্য সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে আমরা ব্যবসার জন্য লিঙ্গ-নিরপেক্ষ আইনি কাঠামো গড়ে তোলায় সুনির্দিষ্ট নীতিগত পদক্ষেপ নিয়েছি।

সরকার প্রধান বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ দেওয়া হচ্ছে। পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্পের ১৫ শতাংশ তহবিল, ১০ শতাংশ শিল্প প্লট এবং ১০ শতাংশ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তহবিল নারীদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রতিটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ডেডিকেটেড ডেস্ক রয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্পে ৪০ লাখের বেশি নারী কর্মরত এবং দেশের প্রায় ৩৫ শতাংশ নারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। জিডিপি’র প্রবৃদ্ধিতে নারীর অবদান ৩৪ শতাংশ। আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরে ৫০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েছি।

শেয়ার করুন
Share on Facebook
Facebook
Pin on Pinterest
Pinterest
Tweet about this on Twitter
Twitter
Share on LinkedIn
Linkedin